• PDF

Inauguration of the Dynamic Website of Bangladesh National Museum

By

Mr. Abul Kalam Azad, Honorable Minister, Ministry of Information and Ministry of Cultural Affairs, Government of the People’s Republic of Bangladesh, at 4:00 pm on 09 January 2012

মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের ভাষণ

সুধীজন,

আজ অত্যন্ত আনন্দঘন একটি দিন। আজ বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের শতবর্ষ উদযাপনের দু’বছরব্যাপী অনুষ্ঠানমালার প্রথম অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী দিন। আপনারা জানেন, বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির আধার বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর আগামী ৭ আগস্ট ২০১৩ সালে শতবর্ষে পদার্পণ করবে। প্রায় একশত বছর আগে অর্থাৎ ১৯১৩ সালের ৭ আগস্ট বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর তার যাত্রা শুরু করেছিল ছোট্ট পরিসরে। সংস্কৃতির প্রাণ কেন্দ্র এই জাতীয় প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে একটি বটবৃক্ষের মত বিকশিত হয়েছে। অত্যন্ত সুখের খবর যে, প্রায় ১ লক্ষ নিদর্শন সম্বলিত এই জাদুঘরটি দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বৃহৎ জাদুঘর হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছে। অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে, দেশি-বিদেশি লক্ষ লক্ষ দর্শকের প্রশংসায় সিক্ত হয়ে আমাদের দেশের হাজার বছরের সংস্কৃতিকে তুলে ধরা এবং এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে এক বিশাল ভূমিকা ও গৌরবময় দায়িত্ব পালন করে চলেছে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর। এ জন্য সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জাদুঘরের বর্তমান কর্তৃপক্ষ এবং সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারিকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘১৪০০ সাল’ কবিতায় বলেছিলেন, ‘আজি হতে শত বর্ষ পরে কে তুমি পড়িতেছ বসে, আমার কবিতা খানি।’ শতবর্ষের পরের কথা চিন্তা করে রবীন্দ্রনাথের এই উচ্চারণ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, এক শ’বছর আগে যারা এদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যেকে তুলে ধরার চিন্তা করে যেন সঠিক কাজটি করেছিলেন। কাকতালীয়ভাবে ঘটনাটি ঘটেছে যে, যে বছর রবীন্দ্রনাথ সাহিত্যে নোবেল পান, সে বছরেই সংস্কৃতির আধার এই জাতীয় প্রতিষ্ঠান জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠিত হয়। আমি এই মুহূর্তে সেই কীর্তিমান ব্যক্তিদের গভীরভাবে স্মরণ করছি যাঁরা জাদুঘর প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। আমি আরও স্মরণ করছি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে যিনি, বাঙালি জাতির এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানটির গৌরবময় অগ্রযাত্রায় অগ্রণী ভূমিকা ও দায়িত্ব পালন করেছেন।

আপনারা আরো জানেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার যে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে- তারই অংশ হিসেবে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর ডিজিটালাইজেশনের ক্ষেত্রে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। একদিকে একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা ও সারা বিশ্বের আধুনিক জাদুঘরসমূহের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলা এবং পাশাপাশি ডিজিটাল জাদুঘর হিসেবে রূপান্তরিত করার ক্ষেত্রে বর্তমানে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে। ইতিহাস বিকৃতি, নানান জটিলতা ও কু-চক্রীদের কবল থেকে উদ্ধার করে বর্তমান জাদুঘর প্রশাসন জাদুঘরকে ইতিহাসের সঠিক গতিধারায় ফিরিয়ে এনেছেন। আশা করি, বর্তমান গতি অব্যাহত থাকলে জাদুঘর তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছুবে।

শততম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে সামনে রেখে আজ সূচনা পর্বের অলংকার প্রদর্শনীর যে বিশেষ আয়োজন -এটি বাংলাদেশের সংস্কৃতির ক্ষেত্রে একটি মাইল ফলক। কারণ বাংলাদেশ তার হাজার বছরের যে ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতিকে নিয়ে গর্ব করে- তারই উজ্জ্বল প্রমাণ এই অলংকার শিল্প। আজ থেকে প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে আবিষ্কৃত হয়েছে বাঙালির সৌন্দর্য-চেতনার প্রতীক-এই অলংকার। শত-সহস্র বছর ধরে নারীদের অংগে শোভা বর্ধনের পাশাপাশি অলংকার বাংলাদেশের ঐতিহ্যকে বহন করে চলেছে।

বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর তার সংগ্রহ থেকে আজ যে, অলংকার প্রদর্শনীর নান্দনিক আয়োজন করেছে তা একদিকে নতুন প্রজন্মের কাছে বাঙালির গৌরবময় শিল্পকর্মকে তুলে ধরছে, পাশাপাশি জাতীয় জাদুঘরের তার কর্মকান্ডের বৈচিত্র্যময় বিকাশ ঘটালো।

আমি আন্তরিকভাবে আশা করি, আজকের এই বিশেষ প্রদর্শনী এবং ডিজিটালাইজেশনের ক্ষেত্রে যে ডাইনামিক ওয়েব সাইটের দরজা খুলছে, তা আমাদের সাংস্কৃতিক ও গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় এক নতুন মাত্রা সৃষ্টি করবে- এই বলে আমি অলংকার প্রদর্শনী ও ডাইনামিক ওয়েব সাইটের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করছি। আপনাদের সুখ ও শান্তি কামনা করছি। জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু।

বাংলাদেশ চিরজীবী হোক |

Contact Us

Phone: +88-02-8619396-9, +88-02-8619400

Fax: +88-02-8615585

E-mail: dgmuseum@yahoo.com

Web: www.bangladeshmuseum.gov.bd